আমারে দেব না ভুলিতে-আশীফ এন্তাজ রবি বই pdf download

amare debo na bhulite book by Ashif Entaz Rabi pdf download from tunetuni.

আমারে দেব না ভুলিতে উপন্যাস বই বিবরনঃ(Pdf Download)

বইঃ আমারে দেব না ভুলিতে বই PDF

লেখকঃ আশীফ এন্তাজ রবি এর বই PDF

প্রকাশনীঃ আদর্শ

ফরম্যাটঃ পিডিএফ ফাইল(Pdf)

ক্যাটাগরিঃ আশীফ এন্তাজ রবি PDF

আশীফ এন্তাজ রবি এর বই pdf Download || amare debo na bhulite pdf book library

book pdf download library

আমারে দেব না ভুলিতে বই রিভিউঃ(Pdf Download)

একটা গল্প বলা হয়েছে সেখানে । তাতে কাজী নজরুল ইসলাম এসেছেন , তার হাত ধরে এসেছেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর , জীবনানন্দ দাশ , শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় , জসীমউদ্দিন । আরও এসেছেন জাদুকর পিসি সরকার , কাননবালা থেকে শুরু করে এক প্রজন্মের সমস্ত রথী – মহারথী ।

এমন একটি বই নিয়ে কোনােমতে চুপ থাকা যায় ? নিচে যা লেখা হচ্ছে , তা রিভিউ না বলে পাঠ প্রতিক্রিয়া বললেই বােধ করি শােভন হবে । আর পাঠ প্রতিক্রিয়াও যদি না হয় , তবে আপনাদের ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টি তাে আছেই ।

উপন্যাসের গল্পটা শুরু হচ্ছে । এক পুকুরপাড় থেকে । পুকুরের ধারে বসে আছেন ফকির আহমেদ । ফকির আহমেদ আবার স্থানীয় মসজিদের ইমাম । হিন্দু অধ্যুষিত এলাকা বলে আয় উপার্জন তেমন নেই । দুই স্ত্রী আর এক পুত্র নিয়ে সংসারটা তার টানাপােড়েনেই চলে ।

এরই মধ্যে দ্বিতীয় স্ত্রীর গর্ভে আসে সন্তান । এর আগেও চারবার সন্তান জন্ম দিয়েছেন তিনি , কিন্তু তাদের কাউকেই পৃথিবীতে ধরে রাখা যায়নি খুব বেশিদিন । তাই পঞ্চমবার স্ত্রীর গর্ভে সন্তান এলে ফকির আহমেদ পরামর্শ হাতড়ে বেড়ান । এখানে – সেখানে ।

কেউ বলেন , শ্রুতিমধুর নাম শুনলে আজরাইলের দৃষ্টি সহজে আকৃষ্ট হয় । এ জন্য সন্তানদের নাম রাখতে হয় উল্টাপাল্টা । পাশের শহরের এক সন্ন্যাসী তাকে জানান , এইবারও ছেলে হবে । এই ছেলে বাঁচবে । সন্ন্যাসীর কথায় ভরসা পেয়ে ফকির আহমেদ সিদ্ধান্ত নেন , ছেলে হলে বামাক্ষ্যাপা সন্ন্যাসীর সঙ্গে মিলিয়েই রাখা হবে ছেলের নাম , তারাক্ষ্যাপা ।

উপন্যাস আবর্তিত হচ্ছে এই তারাক্ষ্যাপাকে ঘিরেই । এই তারাক্ষ্যাপাই আবার কিছুকাল পরে হয়ে যাবেন দুখু মিয়া , বড় ভাই সাহেবজানের কল্যাণে । ততদিনে বাস্তবতার পাঠ অনেকটাই জেনে গিয়েছে সে ।

মক্তবে পড়ার বয়সে আজান দিয়েছে মসজিদে , রাতে চাচার সঙ্গে লেটোর দলে গান গেয়েছে । বয়স নয় না পেরােতেই হারিয়েছে বাবাকে , মা ফের বিয়ে করেছেন চাচাকে । লেখক তাই দুখু মিয়া নামকরণের সার্থকতা খুঁজে পাচ্ছেন এখানে । বলছেন , ‘ যে ছেলে মাত্র নয় বছর বয়সে পিতৃহারা হয় , দুখু নামটি তার জন্য উপযুক্ত বটে । ‘ এই দুখু মিয়াই পরবর্তীতে পরিচিতি পায় কাজী নজরুল ইসলাম নামে , যে নামবদলের কাজটি করেছে সে নিজেই ।

এই নামবদলটা যেন তার স্বাধীনচেতা মনােভাবেরই বহিঃপ্রকাশ । লেখক যেমন বলছেন , ‘ জীবনটা তাে তার , নামও তার রাখা উচিৎ ।

Pdf Download

অন্যের দেয়া নাম সারা জীবন বহন করার কোনাে মানে আছে ? খুব সম্ভবত , দুঃখ – দুর্দশায় বেড়ে ওঠা একাকিত্বে ভরা নজরুলের শৈশবটাও ফুটে ওঠে এখাদ্য । দুখু মিয়া কিংবা নজরুল চরিত্রটি লেখক তৈরি করেছেন বিশেষ যত্ন নিয়ে । শিশু নজরুলের ফর্সা গাল কিংবা সিঁড়ি ভেঙে বাসায় উঠবার পথে কিশাের নজরুলকে দেখে কাজী রফিকউল্লাহর থমকে যাওয়া , এসব ঘটনা নজরুলের রূপ – লাবণ্যেরই দিকে ইঙ্গিত করে । আবার ডালকুত্তার তাড়া খেয়ে ।

মেসে ফেরার সঙ্গে সঙ্গে নজরুলকে দিয়ে ‘ বাবুদের তাল – পুকুরে , হাবুদের ডাল কুকুরে ‘ কবিতা লিখিয়ে লেখক বােঝাতে চান , স্রষ্টা তাকে রূপের সঙ্গে গুণও দিয়েছেন যথার্থ । প্রতিভার গুণে মানুষের নজরে চলে আসাটা ঢের সহজ তার জন্য ।

কলকাতার কলেজ স্ট্রিটের ৩২ নম্বর বাড়িতে তার আগমনে ঘুঘু বিদায় হয়ে যায় , এমন ঘটনার উল্লেখ থেকে বােঝা যায় , দুখু মিয়ার চরিত্রের ‘ আড্ডাবাজ ‘ বৈশিষ্ট্যকে লেখক গুরুত্ব দিতে চেয়েছেন বাড়তি করে । তাই বলে নজরুলের রিপুগুলাে উল্লেখ করতেও ভােলেননি লেখক ।

বিয়ের আসর ছেড়ে অগ্র – পশ্চাৎ না ভেবেই নজরুলের পালিয়ে যাওয়া , তার স্বার্থপরতারই প্রমাণ দেয় যেন । কিংবা পরবর্তী জীবনে স্ত্রী – শাশুড়িকে অর্ধাহার – অনাহারে রেখে নজরুলের আমােদ – প্রমােদ করে বেড়ানাে , তার উদাসীনতারই প্রমাণ । আবার , নজরুলের বেহিসেবী চরিত্র , সরলমনা প্রকৃতি তাকে অভাব – দারিদ্যের মধ্যে রেখেছিল হরদমই ।

আর সবখানেই তার উড়ুক্কু মনের একটা ছাপ পাই আমরা । অণ্ডাল জংশন , আসানসােল , কিংবা ময়মনসিংহ ; দুখু মিয়াকে এক জায়গায় স্থির হয়ে জমে থাকতে দেখা যায়নি কখনােই ।

এই অস্থিরতার প্রমাণ সে রেখেছিল পরবর্তী জীবনেও ।পত্রিকায় লেখালেখি করে করে জীবনটা একঘেয়ে হয়ে গেছে ? আগু – পিছু না ভেবে সঙ্গে সঙ্গে বিদায় বলে দিয়েছে সে কাজকে । দুখু মিয়ার এই অস্থিরমতি স্বভাবটিও লেখক আশীফ এন্তাজ রবি তার লেখায় ফুটিয়ে তুলেছেন যথেষ্ট সার্থকতার সঙ্গে ।

চাঞ্চল্যে ভরা ছিল দুখু মিয়ার প্রেমজীবনেও । কখনাে সৈয়দা খানম ওরফে নার্গিস , কখনাে আশালতা সেন ওরফে প্রমীলা , কখনাে ফজিলাতুন্নেসা , কখনাে ইন্দুবালা , কখনােবা কাননবালা ; নজরুলের জীবনে নারীর আগমন ঘটেছে প্রচুর ।

Pdf Book Library

প্রত্যেককেই যতক্ষণ সে ভালােবেসেছে , উজাড় করেই বেসেছে । কিন্তু আচমকাই থমকে গিয়েছে ভালােবাসা । হয়তােবা শৈশবে পাওয়া অনাদর আর অবহেলায় প্রকৃত ভালােবাসাটা তার বােধগম্যই হয়ে ওঠেনি কখনাে , ছুটে ফিরেছে এ দুয়ার থেকে সে দুয়ারে । বন্ধু মােতাহার হােসেনের সঙ্গে নজরুলের এক রাত্রীকালীন আলাপে লেখক সে । করুণকাহিনী বলিয়েছেন নজরুলের মুখেই । তৎকালীন সমাজবাস্তবতাও ফুটে উঠেছে উপন্যাসে ।

নজরুল বিয়ে করতে চেয়েছেন এক হিন্দু রমণীকে , আর তার জন্যে দু’ভাগ হয়ে গিয়েছে গােটা অঞ্চল , এমনকি কিছুটা উত্তম – মধ্যমও হজম । করতে হয়েছে নজরুলকে , এসব ঘটনার উল্লেখ করে লেখক এ অঞ্চলের মানুষদের ধর্মীয় উগ্রতার দিকেই ইঙ্গিত করেছেন ।

নারীদের দিয়ে থিয়েটার নামিয়ে , কিংবা পুঁটিরানীর শূন্য থেকে শেখরে ওঠার গল্প শুনিয়ে , নারীদের অগ্রযাত্রার জয়গানও যেন শােনানাে হয়েছে উপন্যাসে । নজরুলের সূত্রেই উপন্যাসের নানা ধাপে আগমন ঘটেছে নানা চরিত্রের ।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে কখনাে পাওয়া যাচ্ছে আর্জেন্টিনায় , যেখানে মিলছে ভিক্টোরিয়া ওকাম্পাের সঙ্গে তার সখ্যতার বিবরণ । শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় নিজেই হয়ে গেছেন তার সৃষ্ট চরিত্র ‘ দেবদাস ‘ , লেখকের যথার্থ ভাষাপ্রয়ােগে যা আরােপিত মনে হয়নি একটুও । জীবনানন্দ দাশ ট্রামের তলায় চাপা পড়ার আগে চাপা পড়তে পড়তে বেঁচে গিয়েছেন অনেকবার , যেন ।

মৃত্যুর জন্যেই অপেক্ষা ছিল তার । এর বাইরে জসীমউদ্দিন , বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের অস্তিত্বও পাওয়া গিয়েছে উপন্যাসে । এত বেশিসংখ্যক চরিত্রের উপস্থিতি ঘটলে একটি আশঙ্কা থাকেই , অধিক সন্ন্যাসীতে গাজন নষ্ট হয়ে যায়নি তাে ? কিন্তু লেখক তার ভাষার যথাযথ ব্যবহার এবং সাবলীল বর্ণনাভঙ্গিতে সংশয় প্রকাশের জায়গা রাখেননি একদমই ।

সব মিলিয়ে তাই আশীফ এন্তাজ রবির লেখা ‘ আমারে দেব না ভুলিতে ‘ উপন্যাসটি পড়তে উপভােগ্যই মনে হয়েছে আমার কাছে । আমার ভাবনা সঠিক কী ভুল , তা যাচাই করবার দায়িত্ব ন্যস্ত করে যাচ্ছি । আপনাদের ওপরই ।

Also Download Link:

#দেয়াল হুমায়ূন আহমেদ বই pdf

amare debo na bhulite book by Ashif Entaz Rabi pdf download

Download

error: Content is protected !!